Monday, June 25, 2018
আঙ্কারা: ইসরাইলকে মোকাবেলা করতে মুসলিম নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

শুক্রবার ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বিশেষ সম্মেলনে দেয়া ভাষণে এরদোগান এই আহ্বান জানান।

এরদোগান বলেন, গাজার গণহত্যার দায় ইসরাইলকে নিতে হবে।

গত সোমবার গাজা সীমান্তে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালালে অন্তত ৬২ জন শহীদ হন। এছাড়াও আহত হন দুই হাজারেরও বেশি লোক। এই হত্যাযজ্ঞে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নিন্দা কুড়ায় এবং এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

ইস্তাম্বুলে মুসলিম নেতাদের সামনে এরদোগান বলেন, ‘ইসরাইলি দস্যুতার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে পদক্ষেপ গ্রহণ পুরো বিশ্বকে এটা দেখাচ্ছে যে মানবতা এখনো মরে যায়নি।’

তুর্কি প্রেসিডেন্ট ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বর্বরতা ও হত্যাযজ্ঞকে ‘দস্যুতাবৃত্তি, পাশবিক এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির সমালোচনা করে বলেন, অনিবার্যভাবে এটি তাদেরকে গ্রাস করবে।

ইস্তাম্বুল সম্মেলনে বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা উপস্থিত থাকলেও সৌদি আরব কেবল তার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে পাঠান। একইভাবে, বাহরাইন, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের নিচের সারির মন্ত্রীদের পাঠায়।

সম্মেলনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেন, ফিলিস্তিনি ইস্যুটি আজ বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মানুষের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ‘পাশবিক গণহত্যা’ চালানোর জন্য ইসরাইলের নিন্দা করেন।

ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে না, বরং তারা এখন সমস্যার একটি অংশে পরিণত হয়েছে। তিনি মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরকে ইসলামিক নেশন, মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেন।

জর্ডানের বাদশা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে দ্রুত জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

ফিলিস্তিনিদের জন্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত
ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য একটি ‘আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বাহিনী’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ইস্তাম্বুলে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বিশেষ সম্মেলন থেকে। সম্মেলনে গাজা হত্যার আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা ও জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তুরস্কের আহ্বানে ইস্তাম্বুলে ওআইসির জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। শুক্রবার রাতে ওআইসির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

এছাড়াও, ইস্তাম্বুল ঘোষণায় আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে- যেসব দেশ, কোম্পানি বা ব্যক্তি জেরুজালেমে ইসরাইলি সম্প্রসারণকে স্বীকৃতি দেবে, সেসব দেশ, কোম্পানি, ব্যক্তির ওপর ওআইসি অর্থনৈতিক বাধা আরোপ করবে। সূত্র: আল জাজিরা

Banner Content

0 Comments

Leave a Comment